শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
১৭ জুলাই, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

জাবিতে ডাইনিং সম্পাদকের বিরুদ্ধে বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ: বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ৩ মাস পরও ব্যবস্থা নেননি হল প্রভোস্ট



জাবিতে ডাইনিং সম্পাদকের বিরুদ্ধে বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ: বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ৩ মাস পরও ব্যবস্থা নেননি হল প্রভোস্ট
ছবি প্রতিনিধি



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক মো. আরাফাত হোসাইন ইমনের বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন দোকানে বাকি খেয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দাবি, সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেও হলের প্রভোস্ট এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশপত্র পাঠাননি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


হল সংসদের স্বাস্থ্য সম্পাদক এ এস এম মেহেদী হাসান এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হল সংসদের সভায় ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকও উপস্থিত ছিলেন।


তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপাচার্যের কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর জন্য প্রভোস্টকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।


মেহেদী হাসান আরো বলেন, “ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও অজ্ঞাত কারণে প্রভোস্ট স্যার বহিষ্কারপত্র পাঠাচ্ছেন না। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, হলের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”


এ বিষয়ে হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এই বিষয়ে আমরা সবাই তার পদত্যাগ ও বহিষ্কারের দাবি তুলেছি। প্রভোস্ট স্যারকে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানোর অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বারবার গড়িমসি করেছেন। পরবর্তীতে ফোন কলের মাধ্যমে তাঁর কাছে এই বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগ পত্র কালকে পাঠাবো। 


তিন মাস ধরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় হল সংসদের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরাফাত হোসাইন ইমনের বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার এবং প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠে আসে।


ক্যান্টিন পরিচালনাকারী মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, জাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আরাফাত নিয়মিত ক্যান্টিনে খাবার খেলেও অনেক সময় বিল পরিশোধ করতেন না। টাকা চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


জাবিতে ডাইনিং সম্পাদকের বিরুদ্ধে বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ: বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ৩ মাস পরও ব্যবস্থা নেননি হল প্রভোস্ট

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক মো. আরাফাত হোসাইন ইমনের বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন দোকানে বাকি খেয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দাবি, সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেও হলের প্রভোস্ট এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশপত্র পাঠাননি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


হল সংসদের স্বাস্থ্য সম্পাদক এ এস এম মেহেদী হাসান এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হল সংসদের সভায় ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকও উপস্থিত ছিলেন।


তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপাচার্যের কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর জন্য প্রভোস্টকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।


মেহেদী হাসান আরো বলেন, “ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও অজ্ঞাত কারণে প্রভোস্ট স্যার বহিষ্কারপত্র পাঠাচ্ছেন না। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, হলের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”


এ বিষয়ে হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এই বিষয়ে আমরা সবাই তার পদত্যাগ ও বহিষ্কারের দাবি তুলেছি। প্রভোস্ট স্যারকে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানোর অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বারবার গড়িমসি করেছেন। পরবর্তীতে ফোন কলের মাধ্যমে তাঁর কাছে এই বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগ পত্র কালকে পাঠাবো। 


তিন মাস ধরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় হল সংসদের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরাফাত হোসাইন ইমনের বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার এবং প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠে আসে।


ক্যান্টিন পরিচালনাকারী মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, জাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আরাফাত নিয়মিত ক্যান্টিনে খাবার খেলেও অনেক সময় বিল পরিশোধ করতেন না। টাকা চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত