সিরাজগঞ্জের উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালেঞ্জা দাদুর মোড় এলাকায় অবস্থিত উম্মাহাতুল মু'মিনীন মহিলা মাদ্রাসাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া হুসাইন-এর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত -র আগে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে ঈদের ছুটি ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিচালক কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে সম্প্রতি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত পরিচালক নিজেই আগের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কীভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকের আশঙ্কা, কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাটির বিষয়ে পরোক্ষভাবে সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এত বড় অভিযোগ ওঠার পরও তিনি কীভাবে এখনো মাদ্রাসায় আছেন, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া হুসাইনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়া, এটি মহিলা মাদ্রাসা হওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী আব্দুস সাত্তার-এর ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। ভবন মালিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ভবনের নিচতলায় অবস্থিত তার ইলেকট্রনিক্স শোরুমের এক ব্যবস্থাপক বলেন,
“বিষয়টি আমি এলাকার মানুষের কথাবার্তার মাধ্যমে শুনেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পরে জানতে পারি, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক মর্যাদার বিষয় বিবেচনা করে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনতে অনাগ্রহী। ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় প্রশাসনিকভাবেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, যেহেতু এটি একটি মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটন না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালেঞ্জা দাদুর মোড় এলাকায় অবস্থিত উম্মাহাতুল মু'মিনীন মহিলা মাদ্রাসাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া হুসাইন-এর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত -র আগে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে ঈদের ছুটি ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিচালক কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে সম্প্রতি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত পরিচালক নিজেই আগের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কীভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকের আশঙ্কা, কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাটির বিষয়ে পরোক্ষভাবে সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এত বড় অভিযোগ ওঠার পরও তিনি কীভাবে এখনো মাদ্রাসায় আছেন, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া হুসাইনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়া, এটি মহিলা মাদ্রাসা হওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী আব্দুস সাত্তার-এর ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। ভবন মালিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ভবনের নিচতলায় অবস্থিত তার ইলেকট্রনিক্স শোরুমের এক ব্যবস্থাপক বলেন,
“বিষয়টি আমি এলাকার মানুষের কথাবার্তার মাধ্যমে শুনেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পরে জানতে পারি, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক মর্যাদার বিষয় বিবেচনা করে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনতে অনাগ্রহী। ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় প্রশাসনিকভাবেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, যেহেতু এটি একটি মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটন না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন