মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
১৯ মে, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

শহীদ মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ রাহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী



শহীদ মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ রাহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী


মাওলানা সিরাজুল হক সাহেবের লেখা অবলম্বনে, সম্পাদনায়ঃ Maqsood Ahmad

হযরত মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন কুবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জনাব হাজী রোয়াইতুদ্দীন আহমাদ ওরফে হাজী রোয়াইতুল্লাহ। মাতা পিতার তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি। এরপর বাড়ীতে উস্তাদের কাছে লেখাপড়া করার পর গ্রামের পাঠশালা, এম,ই, স্কুল পাশ করে পাইলগাঁও হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তাঁর ইলমে দ্বীন হাসিলের ব্যাপারে একটি চমৎকার ইতিহাস রয়েছে। অলৌকিকভাবে আদিষ্ট হয়ে তিনি ইলমে ওহী হাসিল করতে বেরিয়ে পড়েন এবং একজন সাধক ও সংস্কারক হিসেবে জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন ঘটনাটি এরকমঃ-

লেখাপড়ার ইতি টেনে তিনি জীবিকার সন্ধানে সুদূর কলিকাতা যান। সিলেটের বরইকান্দির জনাব মাস্টার হরমুজ আলী সাহেব সেখানে বাড়ীওয়ালা ছিলেন। ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের (জাহাজীদের) থাকার জন্য তাঁর হোটেলের ব্যবস্থা ছিল। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ সে প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে চাকুরী নেন এবং প্রায় তিন বছর চাকুরী করেন। কাজ শেষে তিনি মসজিদে গিয়ে এশার নামাজ আদায় করতেন। এক রাতে নামাজ শেষে ফেরার সময় মসজিদের সামনেই একজন শশ্রুধারী সাদা পোশাক পরিহিত লোক তাকে বললেন "তুমি লেখাপড়া বাদ দিয়ে এগুলো কি করছ, যাও ইলমে দ্বীন হাসিল করো।"

এই মুহূর্তেই তিনি কলকাতা থেকে অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে যান। তিনি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ায় একটি মুহূর্তও দেরী করতে পারেননি এবং কাউকে বলেও যাননি। যে কারণে বোর্ডিং এর মালিক চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ বাড়ীতে পাঠান।

তাঁর মা-বাবা, বড় ছেলের নিখোঁজ সংবাদ শুনে ভেঙ্গে পড়েন, অবশেষে দুজনেই ছুটে যান কলিকাতায়। সেখানে মাস্টার হরমুজ আলী সাহেবের সাথে বাদানুবাদ করে কোন সমাধা না হওয়ায় তার উপর মামলা করার চিন্তা ভাবনা করেন। এ ঘটনা মাস্টার সাহেবের ইতিপূর্বে নিজ মেয়েকে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর সাথে বিবাহ দানের ইচ্ছা পোষণ করে সফল না হওয়ার জের কিনা তারা এই সন্দেহ করছিলেন। এ সময় সিলেট জিলার বালাগঞ্জ থানার খাশিকাপনের, জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর পূর্বপুরুষের জনৈক একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর মা-বাবাকে নিবৃত্ত করেন এবং সবর করার পরামর্শ দেন। অপরদিকে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ যেতে যেতে মুরাদাবাদের এক মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন।

এভাবে দীর্ঘদিন যেতে থাকে। তাঁর মাতা-পিতা ভাই-বোন সকলেই নিরাশ হয়ে পড়েন এবং তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ভেবে শোকাবিভূত হয়ে পড়েন।

প্রায় দশ বছর পর বাড়ীর ঠিকানায় জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদের কাছ থেকে একখানা উর্দ্দু চিঠি আসে। চিঠি নিয়ে তাঁর ছোট ভাই জনাব হাজী ধন মিয়া সৈয়দপুরের মাওলানা জমিলুল হক (রাহঃ) সাহেবের কাছে যান। তিনি চিঠি পড়ে বলে দিলেন জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ মুরাদাবাদে লেখাপড়া করছেন। চিঠির উপরে মুরাদাবাদের ঠিকানা লিখা না থাকলেও পোস্ট অফিসের শীলের লেখা পড়ে তিনি মুরাদাবাদ মাদরাসার কথা ধারণা করেন এবং জনাব মাওলানা জমিলুল হক (রাহঃ) নিজে চিঠির মাধ্যমে সন্ধান বের করার দায়িত্ব নেন। এভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি লিখে সত্যিই তাঁর সন্ধান পান।

মা-বাবা এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে তাঁর যেন পূনর্জনম হয়। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদের খোঁজ পেয়ে, সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। মাওলানা জমিলুল হকের পরবর্তী চিঠিতে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর মা-বাবার মর্মান্তিক অবস্থা জানালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাঁহাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন।

জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ তখন বাংলা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর লেখাপড়া সমাপ্তির জন্য আবার সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তাঁর মা বাবা অতীত আতংকের কারণে তাঁহাকে যেতে দিতে চাননি। তিনি নানাভাবে পীড়া-পীড়ি শুরু করলে অবশেষে তাঁহারা যাওয়ার অনুমতি দেন। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ মুরাদাবাদ থেকে টাইটেল পাশ করে দ্বীনের উচ্চতর তালীম নিয়ে এলাকায় ফিরেন।

তিনি নিজ গ্রামের জামে মসজিদে ইমাম ও মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন এবং সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে প্রায় ৩০ বৎসরের ও বেশী সময় নিষ্ঠার সাথে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। উল্লেখ্য যে, তিনি প্রতি শুক্রবারে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব মুসল্লিদের কাছে পেশ করতেন। মসজিদের সকল দায়িত্ব তাঁর হাতেই ন্যস্ত ছিল। (উল্লেখ্য মারহুম মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর ছোট দুই ভাই আলহাজ মোঃ ধন মিয়া ও মারহুম আলহাজ মোঃ পরাছ মিয়া ব্যবসায়ী ও প্রবাসী ছিলেন। তাঁহারা তাঁহাদের বড় ভাই মারহুম মুয়ীনুদ্দীন আহমাদকে সর্ব ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা করিয়াছেন।) 


হযরত মাওলানা মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) টাইটেল পাশ করে দেশে ফেরার পর নিজ এলাকায় ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এলাকা থেকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করতে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই ভেবে প্রতিকূল পরিবেশে তিনি নিজ গ্রামে ১৯৫০ সালে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তথা দ্বীন দরদী মুরব্বিয়ান এবং যুব সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতায় তিনি দ্বীনের এ বাগানটি তৈরীতে সক্ষম হন। দ্বীনের আলো ছড়াতে একটি দ্বীনি মাদরাসার গুরুত্ব যে কত বেশী তা সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝেন।

শহীদ হযরত মাওলানা মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আর এই জগতে দেখব না আমরা। সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেছেন। আমরা সকলে ময়দানে মাহশরে যেন তাঁকে আবার ফিরে পাই এবং সবাই হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ঝান্ডার নিচে একত্রিত হয়ে বেহেস্তে পৌঁছতে পারি এই দোয়া রাব্বুল আলামীনের দরবারে।

হযরত মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাঃ) এর শাহাদাতে মর্মাহত, আধ্যাত্মিক জ্ঞান পিপাসু মহলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। বিশেষ করে ইসলামী সমাজে তাঁর শাহাদাতে যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি পূরণ করার মত ব্যক্তিত্ব আমরা

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


শহীদ মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ রাহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image


মাওলানা সিরাজুল হক সাহেবের লেখা অবলম্বনে, সম্পাদনায়ঃ Maqsood Ahmad

হযরত মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন কুবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জনাব হাজী রোয়াইতুদ্দীন আহমাদ ওরফে হাজী রোয়াইতুল্লাহ। মাতা পিতার তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি। এরপর বাড়ীতে উস্তাদের কাছে লেখাপড়া করার পর গ্রামের পাঠশালা, এম,ই, স্কুল পাশ করে পাইলগাঁও হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তাঁর ইলমে দ্বীন হাসিলের ব্যাপারে একটি চমৎকার ইতিহাস রয়েছে। অলৌকিকভাবে আদিষ্ট হয়ে তিনি ইলমে ওহী হাসিল করতে বেরিয়ে পড়েন এবং একজন সাধক ও সংস্কারক হিসেবে জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন ঘটনাটি এরকমঃ-

লেখাপড়ার ইতি টেনে তিনি জীবিকার সন্ধানে সুদূর কলিকাতা যান। সিলেটের বরইকান্দির জনাব মাস্টার হরমুজ আলী সাহেব সেখানে বাড়ীওয়ালা ছিলেন। ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের (জাহাজীদের) থাকার জন্য তাঁর হোটেলের ব্যবস্থা ছিল। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ সে প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে চাকুরী নেন এবং প্রায় তিন বছর চাকুরী করেন। কাজ শেষে তিনি মসজিদে গিয়ে এশার নামাজ আদায় করতেন। এক রাতে নামাজ শেষে ফেরার সময় মসজিদের সামনেই একজন শশ্রুধারী সাদা পোশাক পরিহিত লোক তাকে বললেন "তুমি লেখাপড়া বাদ দিয়ে এগুলো কি করছ, যাও ইলমে দ্বীন হাসিল করো।"

এই মুহূর্তেই তিনি কলকাতা থেকে অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে যান। তিনি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ায় একটি মুহূর্তও দেরী করতে পারেননি এবং কাউকে বলেও যাননি। যে কারণে বোর্ডিং এর মালিক চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ বাড়ীতে পাঠান।

তাঁর মা-বাবা, বড় ছেলের নিখোঁজ সংবাদ শুনে ভেঙ্গে পড়েন, অবশেষে দুজনেই ছুটে যান কলিকাতায়। সেখানে মাস্টার হরমুজ আলী সাহেবের সাথে বাদানুবাদ করে কোন সমাধা না হওয়ায় তার উপর মামলা করার চিন্তা ভাবনা করেন। এ ঘটনা মাস্টার সাহেবের ইতিপূর্বে নিজ মেয়েকে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর সাথে বিবাহ দানের ইচ্ছা পোষণ করে সফল না হওয়ার জের কিনা তারা এই সন্দেহ করছিলেন। এ সময় সিলেট জিলার বালাগঞ্জ থানার খাশিকাপনের, জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর পূর্বপুরুষের জনৈক একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর মা-বাবাকে নিবৃত্ত করেন এবং সবর করার পরামর্শ দেন। অপরদিকে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ যেতে যেতে মুরাদাবাদের এক মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন।

এভাবে দীর্ঘদিন যেতে থাকে। তাঁর মাতা-পিতা ভাই-বোন সকলেই নিরাশ হয়ে পড়েন এবং তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ভেবে শোকাবিভূত হয়ে পড়েন।

প্রায় দশ বছর পর বাড়ীর ঠিকানায় জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদের কাছ থেকে একখানা উর্দ্দু চিঠি আসে। চিঠি নিয়ে তাঁর ছোট ভাই জনাব হাজী ধন মিয়া সৈয়দপুরের মাওলানা জমিলুল হক (রাহঃ) সাহেবের কাছে যান। তিনি চিঠি পড়ে বলে দিলেন জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ মুরাদাবাদে লেখাপড়া করছেন। চিঠির উপরে মুরাদাবাদের ঠিকানা লিখা না থাকলেও পোস্ট অফিসের শীলের লেখা পড়ে তিনি মুরাদাবাদ মাদরাসার কথা ধারণা করেন এবং জনাব মাওলানা জমিলুল হক (রাহঃ) নিজে চিঠির মাধ্যমে সন্ধান বের করার দায়িত্ব নেন। এভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি লিখে সত্যিই তাঁর সন্ধান পান।

মা-বাবা এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে তাঁর যেন পূনর্জনম হয়। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদের খোঁজ পেয়ে, সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। মাওলানা জমিলুল হকের পরবর্তী চিঠিতে জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর মা-বাবার মর্মান্তিক অবস্থা জানালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাঁহাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন।

জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ তখন বাংলা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর লেখাপড়া সমাপ্তির জন্য আবার সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তাঁর মা বাবা অতীত আতংকের কারণে তাঁহাকে যেতে দিতে চাননি। তিনি নানাভাবে পীড়া-পীড়ি শুরু করলে অবশেষে তাঁহারা যাওয়ার অনুমতি দেন। জনাব মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ মুরাদাবাদ থেকে টাইটেল পাশ করে দ্বীনের উচ্চতর তালীম নিয়ে এলাকায় ফিরেন।

তিনি নিজ গ্রামের জামে মসজিদে ইমাম ও মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন এবং সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে প্রায় ৩০ বৎসরের ও বেশী সময় নিষ্ঠার সাথে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। উল্লেখ্য যে, তিনি প্রতি শুক্রবারে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব মুসল্লিদের কাছে পেশ করতেন। মসজিদের সকল দায়িত্ব তাঁর হাতেই ন্যস্ত ছিল। (উল্লেখ্য মারহুম মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ এর ছোট দুই ভাই আলহাজ মোঃ ধন মিয়া ও মারহুম আলহাজ মোঃ পরাছ মিয়া ব্যবসায়ী ও প্রবাসী ছিলেন। তাঁহারা তাঁহাদের বড় ভাই মারহুম মুয়ীনুদ্দীন আহমাদকে সর্ব ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা করিয়াছেন।) 


হযরত মাওলানা মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) টাইটেল পাশ করে দেশে ফেরার পর নিজ এলাকায় ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এলাকা থেকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করতে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই ভেবে প্রতিকূল পরিবেশে তিনি নিজ গ্রামে ১৯৫০ সালে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তথা দ্বীন দরদী মুরব্বিয়ান এবং যুব সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতায় তিনি দ্বীনের এ বাগানটি তৈরীতে সক্ষম হন। দ্বীনের আলো ছড়াতে একটি দ্বীনি মাদরাসার গুরুত্ব যে কত বেশী তা সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝেন।

শহীদ হযরত মাওলানা মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাহঃ) আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আর এই জগতে দেখব না আমরা। সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেছেন। আমরা সকলে ময়দানে মাহশরে যেন তাঁকে আবার ফিরে পাই এবং সবাই হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ঝান্ডার নিচে একত্রিত হয়ে বেহেস্তে পৌঁছতে পারি এই দোয়া রাব্বুল আলামীনের দরবারে।

হযরত মাওলানা শায়খ মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (রাঃ) এর শাহাদাতে মর্মাহত, আধ্যাত্মিক জ্ঞান পিপাসু মহলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। বিশেষ করে ইসলামী সমাজে তাঁর শাহাদাতে যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি পূরণ করার মত ব্যক্তিত্ব আমরা


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত