মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
০৫ মে, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

কুমিল্লায় বিদেশ পাঠানোর নামে সাংবাদিকের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা



কুমিল্লায় বিদেশ পাঠানোর নামে সাংবাদিকের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা


কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভায় সৌদি আরব পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি (সিআর নং-৬৮৮/২০২৫) তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দাউদকান্দি থানা পুলিশ।


মামলা সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি পৌরসভার তুজারভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দাউদকান্দি পৌরসভা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. আলেক হোসেনের ছেলে ও এক আত্মীয়কে স্বল্প খরচে দ্রুত সৌদি আরব পাঠানোর আশ্বাস দেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি প্রতারক চক্র। এই প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোট ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন-মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধী গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন (৭৮), তার স্ত্রী পারুল বেগম (৫৮), বাহাদুরপুর গ্রামের আক্কাস দেওয়ান (৭৩), আমেনা আক্তার শিপু (২৭), দিপু (৪১) এবং সৌদি প্রবাসী বাবু দেওয়ান (৩৫)।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে আরও ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভিসা, মেডিকেল ও বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে জাল ভিসা ও টিকিট দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।

পরে ভিসাটি জাল বলে স্বীকার করে নতুন ভিসার আশ্বাস দিয়ে ২০২৫ সালের ৫ মে আরও ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে মোট ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আলেক হোসেন দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে কথোপকথন ও টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক মোবাইল ফোন রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি দেয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন।


এবিষয়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী  জানান, সরেজমিন তদন্ত, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং গোপন অনুসন্ধানে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


কুমিল্লায় বিদেশ পাঠানোর নামে সাংবাদিকের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভায় সৌদি আরব পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি (সিআর নং-৬৮৮/২০২৫) তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দাউদকান্দি থানা পুলিশ।


মামলা সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি পৌরসভার তুজারভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দাউদকান্দি পৌরসভা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. আলেক হোসেনের ছেলে ও এক আত্মীয়কে স্বল্প খরচে দ্রুত সৌদি আরব পাঠানোর আশ্বাস দেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি প্রতারক চক্র। এই প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোট ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন-মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধী গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন (৭৮), তার স্ত্রী পারুল বেগম (৫৮), বাহাদুরপুর গ্রামের আক্কাস দেওয়ান (৭৩), আমেনা আক্তার শিপু (২৭), দিপু (৪১) এবং সৌদি প্রবাসী বাবু দেওয়ান (৩৫)।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে আরও ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভিসা, মেডিকেল ও বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে জাল ভিসা ও টিকিট দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।

পরে ভিসাটি জাল বলে স্বীকার করে নতুন ভিসার আশ্বাস দিয়ে ২০২৫ সালের ৫ মে আরও ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে মোট ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আলেক হোসেন দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে কথোপকথন ও টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক মোবাইল ফোন রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি দেয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন।


এবিষয়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী  জানান, সরেজমিন তদন্ত, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং গোপন অনুসন্ধানে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত