শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
১৭ জুলাই, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সমীকরণে জাবির বাবর




ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।  যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে নতুন কমিটি। আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা দুঃসময়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা। বিগত সময়ে কেন্দ্রীয় সংসদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একক আধিপত্য রাখা হলেও এবার তা ভেঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সৎ, অমায়িক ও দূরদর্শী হিসেবে পরিচিত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নাম বেশ জোরেসোড়ে আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাবরের জন্মস্থান ও ক্যাম্পাসে একাধিকবার খোঁজ নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে গুরুত্ব পেলেও ছাত্রদল বরাবরই অবহেলিত- এ নিয়ে নেতাকর্মীদের চাপা অভিমানও রয়েছে।


জানা যায়, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ছাত্রদল করার কারণে তার ব্যাচের মধ্যে সর্বপ্রথম তাকেই হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। নানামূখী প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশুনা ও রাজনীতিকে জীবণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিয়ে পথ চলেন। ২০১২ সালের হল কমিটিতে শহিদ সালাম-বরকত হলের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রসায়ন বিভাগের পরীক্ষাকালীন জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে এনে ছাত্রলীগের একদল কর্মী নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভাঙা ও গভীর জখম হয়। পরদিন, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার খবর জাতীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়। হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা, ছাত্রলীগের প্রকাশ্য হুমকি এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ ৫টি রাজনৈতিক মামলার কারণে বাবর দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। ফলে তার শিক্ষাজীবণ শেষ করা সম্ভব হয়নি।


এরপরেও বিভিন্ন সুপার ইউনিটের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজপথে ছিলেন। ২০১৬সালে জাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে। এরপর দীর্ঘ সময় শাখা ছাত্রদলের কমিটি না থাকলেও সংগঠনকে ঐকবদ্ধ রাখতে কাজ করেন। বিএনপি ঘোষিত একদফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেন। ফলে ২০২৩সালের ১৮আগস্ট ডিবি কর্তৃক ৪দিন গুমের শিকার হন। এরপর তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়। কারামুক্ত হয়ে ২৮অক্টোবরের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্দোলনে আবারও জড়িয়ে যান। ২৪এর গণঅভ্যূত্থানে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। ২০২৫সালের জানুয়ারিতে শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে নিজেকে বিতর্ক ও প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করেছেন। এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দখল, সিট বাণিজ্য, ভিন্ন মত দমন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গণরুমসহ কোন অভিযোগ ওঠেনি। ফলে, শাখা ছাত্রদলের গণ্ডির বাইরেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ পদে আসতে চলেছে বলে দলীয় নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন।


এ বিষয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলনে ঢাবির পাশাপাশি জাবি ও অন্যান্য ইউনিটেরও ভূমিকা ছিল। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢাবির একক আধিপত্য আমাদের হতাশ করবে। সেজন্য আমরা চাই সব ইউনিটকেই মূল্যায়ন করা হউক। আমাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন গুম ফেরত ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ভাই।


নৃবিঞ্জান ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিল আকাশ বলেন, আমার দেখি শিবিরের কেন্দ্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সভাপতি, সেক্রেটারি জেনারেল হয়। কিন্তু ছাত্রদলে চিত্র পুরোই উল্টো। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাবর ভাইকে সজ্জন হিসেবে জানি এবং ছাত্রদল না করা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে পেয়েছি। আশা করছি তিনি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন।


নজরুল হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হজরত জিসান বলেন, জাবি ছাত্রদলকে কাঙ্খ্ষিত মাত্রায় গতিশিল ও কার্যকর করতে

হলে কেন্দ্রে মূল্যায়ন করতে হবে। নির্যাতিত, গুম ফেরত ও কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতা বাবর ভাইকে সুপার ফাইভে দেখব বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে জানতে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

বিষয় : বিএনপি

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সমীকরণে জাবির বাবর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image


ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।  যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে নতুন কমিটি। আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা দুঃসময়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা। বিগত সময়ে কেন্দ্রীয় সংসদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একক আধিপত্য রাখা হলেও এবার তা ভেঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সৎ, অমায়িক ও দূরদর্শী হিসেবে পরিচিত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নাম বেশ জোরেসোড়ে আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাবরের জন্মস্থান ও ক্যাম্পাসে একাধিকবার খোঁজ নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে গুরুত্ব পেলেও ছাত্রদল বরাবরই অবহেলিত- এ নিয়ে নেতাকর্মীদের চাপা অভিমানও রয়েছে।


জানা যায়, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ছাত্রদল করার কারণে তার ব্যাচের মধ্যে সর্বপ্রথম তাকেই হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। নানামূখী প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশুনা ও রাজনীতিকে জীবণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিয়ে পথ চলেন। ২০১২ সালের হল কমিটিতে শহিদ সালাম-বরকত হলের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রসায়ন বিভাগের পরীক্ষাকালীন জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে এনে ছাত্রলীগের একদল কর্মী নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভাঙা ও গভীর জখম হয়। পরদিন, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার খবর জাতীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়। হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা, ছাত্রলীগের প্রকাশ্য হুমকি এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ ৫টি রাজনৈতিক মামলার কারণে বাবর দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। ফলে তার শিক্ষাজীবণ শেষ করা সম্ভব হয়নি।


এরপরেও বিভিন্ন সুপার ইউনিটের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজপথে ছিলেন। ২০১৬সালে জাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে। এরপর দীর্ঘ সময় শাখা ছাত্রদলের কমিটি না থাকলেও সংগঠনকে ঐকবদ্ধ রাখতে কাজ করেন। বিএনপি ঘোষিত একদফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেন। ফলে ২০২৩সালের ১৮আগস্ট ডিবি কর্তৃক ৪দিন গুমের শিকার হন। এরপর তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়। কারামুক্ত হয়ে ২৮অক্টোবরের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্দোলনে আবারও জড়িয়ে যান। ২৪এর গণঅভ্যূত্থানে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। ২০২৫সালের জানুয়ারিতে শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে নিজেকে বিতর্ক ও প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করেছেন। এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দখল, সিট বাণিজ্য, ভিন্ন মত দমন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গণরুমসহ কোন অভিযোগ ওঠেনি। ফলে, শাখা ছাত্রদলের গণ্ডির বাইরেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ পদে আসতে চলেছে বলে দলীয় নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন।


এ বিষয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলনে ঢাবির পাশাপাশি জাবি ও অন্যান্য ইউনিটেরও ভূমিকা ছিল। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢাবির একক আধিপত্য আমাদের হতাশ করবে। সেজন্য আমরা চাই সব ইউনিটকেই মূল্যায়ন করা হউক। আমাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন গুম ফেরত ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ভাই।


নৃবিঞ্জান ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিল আকাশ বলেন, আমার দেখি শিবিরের কেন্দ্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সভাপতি, সেক্রেটারি জেনারেল হয়। কিন্তু ছাত্রদলে চিত্র পুরোই উল্টো। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাবর ভাইকে সজ্জন হিসেবে জানি এবং ছাত্রদল না করা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে পেয়েছি। আশা করছি তিনি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন।


নজরুল হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হজরত জিসান বলেন, জাবি ছাত্রদলকে কাঙ্খ্ষিত মাত্রায় গতিশিল ও কার্যকর করতে

হলে কেন্দ্রে মূল্যায়ন করতে হবে। নির্যাতিত, গুম ফেরত ও কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতা বাবর ভাইকে সুপার ফাইভে দেখব বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে জানতে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত