সারাদেশে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ তৈরি করেছে।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই মধ্যে এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থি হওয়ার আকাংকা ব্যক্ত করেছেন এলাকার সুপরিচিত মুখ কানাডা প্রবাসী সাবেক শিবির নেতা মোঃ রেজাউল করিম।
সম্প্রতি ইনি তার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক বার্তায় তাহিরপুর নিয়ে সুপরিকল্পিত ইশতেহার প্রকাশ করে তাহিরপুরবাসীর উদ্দেশ্যে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দেন।
বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে (কানাডা) থাকলেও, খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
একটি আধুনিক তাহিরপুর গঠনে তাঁর ইশতেহার হুবহু তুলে ধরা হলো: তাহিরপুরকে নিয়ে আমার একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ কর্মপরিকল্পনা:=
১. হাওর ও কৃষি সুরক্ষা
তাহিরপুরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। প্রতিবছর আগাম বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যায়।
• বোরো ধান রক্ষা: ফসল রক্ষা বাঁধের টেকসই সংস্কার এবং পিআইসি (PIC) গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
• বিকল্প কৃষি: শুধু ধানের ওপর নির্ভর না করে রবি শস্য এবং বর্ষাকালে খাঁচায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বৃদ্ধি।
২. পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন
টাঙ্গুয়ার হাওর, নিলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী এবং শিমুল বাগানকে কেন্দ্র করে তাহিরপুর এখন দেশের পর্যটন রাজধানী।
• ইকো-ট্যুরিজম: পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন।
• স্থানীয় কর্মসংস্থান: পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গাইড, নৌকা চালক এবং হোম-স্টে ব্যবসার মাধ্যমে তরুণদের আয়ের উৎস তৈরি করা।
• পরিচ্ছন্নতা: পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন।
৩. যাতায়াত ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বর্ষা ও শুকনো—এই দুই মৌসুমে তাহিরপুরের মানুষের কষ্ট দুই রকম।
• সাবমার্সিবল রোড: হাওরের ভেতর দিয়ে টেকসই ডুবো রাস্তা নির্মাণ যাতে শুকনো মৌসুমে পণ্য পরিবহন সহজ হয়।
• নদী ভাঙন রোধ: যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী সিসি ব্লক বা জিও ব্যাগের ব্যবস্থা।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।
• ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক: বর্ষাকালে হাওরের প্রত্যন্ত গ্রামে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স বা নৌ-ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা।
• কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের আইটি (IT) ও ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
৫. খনিজ সম্পদ ও শ্রমিক অধিকার
যাদুকাটা নদীর বালু ও পাথর কোয়ারির সাথে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন জড়িত।
• শ্রমিক কল্যাণ: বালু ও পাথর শ্রমিকদের নায্য মজুরি এবং ইজারা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন।

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
সারাদেশে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ তৈরি করেছে।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই মধ্যে এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থি হওয়ার আকাংকা ব্যক্ত করেছেন এলাকার সুপরিচিত মুখ কানাডা প্রবাসী সাবেক শিবির নেতা মোঃ রেজাউল করিম।
সম্প্রতি ইনি তার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক বার্তায় তাহিরপুর নিয়ে সুপরিকল্পিত ইশতেহার প্রকাশ করে তাহিরপুরবাসীর উদ্দেশ্যে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দেন।
বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে (কানাডা) থাকলেও, খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
একটি আধুনিক তাহিরপুর গঠনে তাঁর ইশতেহার হুবহু তুলে ধরা হলো: তাহিরপুরকে নিয়ে আমার একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ কর্মপরিকল্পনা:=
১. হাওর ও কৃষি সুরক্ষা
তাহিরপুরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। প্রতিবছর আগাম বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যায়।
• বোরো ধান রক্ষা: ফসল রক্ষা বাঁধের টেকসই সংস্কার এবং পিআইসি (PIC) গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
• বিকল্প কৃষি: শুধু ধানের ওপর নির্ভর না করে রবি শস্য এবং বর্ষাকালে খাঁচায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বৃদ্ধি।
২. পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন
টাঙ্গুয়ার হাওর, নিলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী এবং শিমুল বাগানকে কেন্দ্র করে তাহিরপুর এখন দেশের পর্যটন রাজধানী।
• ইকো-ট্যুরিজম: পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন।
• স্থানীয় কর্মসংস্থান: পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গাইড, নৌকা চালক এবং হোম-স্টে ব্যবসার মাধ্যমে তরুণদের আয়ের উৎস তৈরি করা।
• পরিচ্ছন্নতা: পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন।
৩. যাতায়াত ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বর্ষা ও শুকনো—এই দুই মৌসুমে তাহিরপুরের মানুষের কষ্ট দুই রকম।
• সাবমার্সিবল রোড: হাওরের ভেতর দিয়ে টেকসই ডুবো রাস্তা নির্মাণ যাতে শুকনো মৌসুমে পণ্য পরিবহন সহজ হয়।
• নদী ভাঙন রোধ: যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী সিসি ব্লক বা জিও ব্যাগের ব্যবস্থা।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।
• ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক: বর্ষাকালে হাওরের প্রত্যন্ত গ্রামে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স বা নৌ-ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা।
• কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের আইটি (IT) ও ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
৫. খনিজ সম্পদ ও শ্রমিক অধিকার
যাদুকাটা নদীর বালু ও পাথর কোয়ারির সাথে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন জড়িত।
• শ্রমিক কল্যাণ: বালু ও পাথর শ্রমিকদের নায্য মজুরি এবং ইজারা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন।

আপনার মতামত লিখুন