বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

পাবনায় মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে ছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার,ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টার অভিযোগ



পাবনায় মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে ছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার,ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টার অভিযোগ

পাবনা শহরের  লস্করপুরে অবস্থিত হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে সুমাইয়া (১৩) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় নিহত সুমাইয়া পাবনা শহরের পাটকিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হযরত আলীর মেয়ে সুমাইয়ার বাবা পেশায় একজন রিক্সাচালক এবং পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হযরত মারিয়াম (আঃ) মহিলা মাদ্ররাসা নিহতের বাবা হযরত আলী জানান, শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে তাকে জানায় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত  মাদ্রাসায় ছুটে গেলে সুমাইয়াকে নিচে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, "মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে আমার মেয়ে ফাঁস নিয়েছে, কিন্তু তার শরীরে ফাঁস নেওয়ার কোনো লক্ষণ ছিল না গলায় কোনো দাগ ছিল না শরীর ঠান্ডা ছিল এবং মুখের পাশে দুটি আঘাতের চিহ্ন ছিল গোসল করানোর সময় দেখা গেছে দুই হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে" তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সুপার তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে একটি নির্দাবী স্বাক্ষর (সমঝোতা) করিয়ে নেন তার দাবি, "আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তেমন আগ্রহ দেখায়নি নিহতের মা নাজেরা খাতুন বলেন, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার মেয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছে, যা আগে কখনো শোনা যায়নি তার ভাষ্য, "হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এসব বলা হচ্ছে" ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গেলে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় মূল ফটকে বড় তালা ঝুলতে দেখা যায় মাদ্রাসার সুপার রুস্তম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়

বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দুলাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ্য, সুমাইয়া ২০২১ সালে হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি হয় ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি একই প্রতিষ্ঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবার এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পাবনায় মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে ছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার,ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পাবনা শহরের  লস্করপুরে অবস্থিত হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে সুমাইয়া (১৩) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় নিহত সুমাইয়া পাবনা শহরের পাটকিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হযরত আলীর মেয়ে সুমাইয়ার বাবা পেশায় একজন রিক্সাচালক এবং পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হযরত মারিয়াম (আঃ) মহিলা মাদ্ররাসা নিহতের বাবা হযরত আলী জানান, শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে তাকে জানায় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত  মাদ্রাসায় ছুটে গেলে সুমাইয়াকে নিচে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, "মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে আমার মেয়ে ফাঁস নিয়েছে, কিন্তু তার শরীরে ফাঁস নেওয়ার কোনো লক্ষণ ছিল না গলায় কোনো দাগ ছিল না শরীর ঠান্ডা ছিল এবং মুখের পাশে দুটি আঘাতের চিহ্ন ছিল গোসল করানোর সময় দেখা গেছে দুই হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে" তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সুপার তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে একটি নির্দাবী স্বাক্ষর (সমঝোতা) করিয়ে নেন তার দাবি, "আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তেমন আগ্রহ দেখায়নি নিহতের মা নাজেরা খাতুন বলেন, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার মেয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছে, যা আগে কখনো শোনা যায়নি তার ভাষ্য, "হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এসব বলা হচ্ছে" ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গেলে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় মূল ফটকে বড় তালা ঝুলতে দেখা যায় মাদ্রাসার সুপার রুস্তম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়

বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দুলাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ্য, সুমাইয়া ২০২১ সালে হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি হয় ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি একই প্রতিষ্ঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবার এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)
মোবাইল: ০১৮২৭৭৫৪৬৩৫

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত