উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া জামিল আহমেদ লিমন ফিরলেন নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই মেধাবী পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ সোমবার (৪ মে) দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। শেষবারের মতো লিমনকে একনজর দেখতে বাড়ির আঙিনায় ভিড় করেন শত শত মানুষ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ছুটে আসেন।
অনেকেই কফিন স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন—
“এভাবে লিমন ফিরবে, এটা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিমন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী একজন শিক্ষার্থী। তার এমন মৃত্যু পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নিহত লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি আমার ছেলেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পিএইচডি করার জন্য আমেরিকায় পাঠিয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে তাকে কোনো কষ্ট দিই নাই। আমার আদরের ছেলেটাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হবে—এটা আমি কোনোদিন কল্পনাও করতে পারি নাই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর কোনো বাবার যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে না হয়—এটাই আমার একমাত্র দাবি।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বাদ মাগরিব লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে কবর খননসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, লিমন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে তিনি ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় তার রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
লিমনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। এলাকাবাসী ও স্বজনদের একটাই দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া জামিল আহমেদ লিমন ফিরলেন নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই মেধাবী পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ সোমবার (৪ মে) দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। শেষবারের মতো লিমনকে একনজর দেখতে বাড়ির আঙিনায় ভিড় করেন শত শত মানুষ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ছুটে আসেন।
অনেকেই কফিন স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন—
“এভাবে লিমন ফিরবে, এটা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিমন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী একজন শিক্ষার্থী। তার এমন মৃত্যু পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নিহত লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি আমার ছেলেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পিএইচডি করার জন্য আমেরিকায় পাঠিয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে তাকে কোনো কষ্ট দিই নাই। আমার আদরের ছেলেটাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হবে—এটা আমি কোনোদিন কল্পনাও করতে পারি নাই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর কোনো বাবার যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে না হয়—এটাই আমার একমাত্র দাবি।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বাদ মাগরিব লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে কবর খননসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, লিমন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে তিনি ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় তার রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
লিমনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। এলাকাবাসী ও স্বজনদের একটাই দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন