শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার




জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ

একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইনের শাসনে আপস নয়

জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।

ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।

জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা

একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা

পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।

অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি

দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।

গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে

নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ কথা

একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ

একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইনের শাসনে আপস নয়

জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।

ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।

জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা

একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা

পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।

অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি

দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।

গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে

নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ কথা

একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)
মোবাইল: ০১৮২৭৭৫৪৬৩৫

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত