বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

যশোর হাসপাতালে ‘ছায়া ডাক্তার’ সাকিবের রাজত্ব: বিশেষ অনুমতিতে প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য!



যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষ। যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বসার কথা, সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে দাপটের সাথে রোগী দেখছেন নাজমুল সাকিব (৩০) নামে এক যুবক। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সরকারি নিয়োগ না থাকলেও ‘বিশেষ অনুমতি’র দোহাই দিয়ে তিনি রীতিমতো চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সাকিব যশোর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার কাজিপুর গ্রামের মামুন হোসেনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বজলুর রহমান টুলুর তথাকথিত ‘বিশেষ অনুমতি’ নিয়ে তিনি অর্থোপেডিক বহির্ভাগে কাজ শুরু করেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তার কর্মপরিধি বদলে গিয়ে রূপ নিয়েছে অনিয়ম ও বাণিজ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে: চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাকিব নিজেই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের কৌশলে বুঝিয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ল্যাব টেস্ট ও ক্লিনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ রোগীদের প্রেসক্রিপশনে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সাধারণ ব্যক্তির সরকারি হাসপাতালের কক্ষে বসে প্রেসক্রিপশন লেখা কেবল বেআইনিই নয়, বরং হাসপাতালের প্রশাসনিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ রোগীরা তাকে চিকিৎসক মনে করে প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন সাফায়েত বলেন, “বিষয়টি আমাদের কানে এসেছে এবং আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সরকারি হাসপাতালের স্পর্শকাতর স্থানে এমন বহিরাগত ব্যক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


যশোর হাসপাতালে ‘ছায়া ডাক্তার’ সাকিবের রাজত্ব: বিশেষ অনুমতিতে প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষ। যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বসার কথা, সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে দাপটের সাথে রোগী দেখছেন নাজমুল সাকিব (৩০) নামে এক যুবক। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সরকারি নিয়োগ না থাকলেও ‘বিশেষ অনুমতি’র দোহাই দিয়ে তিনি রীতিমতো চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সাকিব যশোর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার কাজিপুর গ্রামের মামুন হোসেনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বজলুর রহমান টুলুর তথাকথিত ‘বিশেষ অনুমতি’ নিয়ে তিনি অর্থোপেডিক বহির্ভাগে কাজ শুরু করেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তার কর্মপরিধি বদলে গিয়ে রূপ নিয়েছে অনিয়ম ও বাণিজ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে: চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাকিব নিজেই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের কৌশলে বুঝিয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ল্যাব টেস্ট ও ক্লিনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ রোগীদের প্রেসক্রিপশনে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সাধারণ ব্যক্তির সরকারি হাসপাতালের কক্ষে বসে প্রেসক্রিপশন লেখা কেবল বেআইনিই নয়, বরং হাসপাতালের প্রশাসনিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ রোগীরা তাকে চিকিৎসক মনে করে প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন সাফায়েত বলেন, “বিষয়টি আমাদের কানে এসেছে এবং আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সরকারি হাসপাতালের স্পর্শকাতর স্থানে এমন বহিরাগত ব্যক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)
মোবাইল: ০১৮২৭৭৫৪৬৩৫

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত