বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

বসতবাড়ি বিক্রি করেও চিকিৎসার খরচ হচ্ছে না শিশু সিরাতের, সহায়তার আকুতি পরিবারের




ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সিরাতুল জান্নাতের টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ, সহায়তার আকুতি পরিবারের


অভাব অনটনের সংসার। রিকশা চালক বাবার সামান্য আয় আর দুঃখ কষ্টে কাটছিলো দিন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মা বাবা খুঁজে পেত সুখ। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হলো না ৷ ৮ বছর বয়সি শিশু সিরাতুল জান্নাত হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় মা বাবা। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সিরাতুল জান্নাত। 


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির মেয়ে সিরাতুল জান্নাত। সে সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভাব অনটনের সংসারে সে ছিলো পরিবারের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে আদরের মেয়ের বিরল রোগে শোকে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। 


এক বছর আগে অসুস্থ হওয়ার পরে লিভার সিনোসিন রোগ শনাক্ত হয়। পরে টাকার অভাবে পরিবার চিকিৎসা করতে না পেরে এখন বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সে। শুরুতে নিজের জমানো টাকা দিয়ে কিছুটা চিকিৎসা শুরু করলেও পরে কুলে উঠতে পারেনি পরিবার। এলাকাবাসীর সহায়তায় কিছুদিন চিকিৎসা করার পর নিজের পৈতৃক দুই শতক জমির ওপর টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি করা বসতবাড়ি বিক্রি করে করেছেন তার চিকিৎসা। এখন চিকিৎসা করার কোনো উপায় নেই পরিবারের। এক মাস ধরে কোনো রকমের চিকিৎসা ছাড়াই বিছানায় পড়ে আছে পরিবারের আদরের শিশুটি। 


অশ্রুসিক্ত নয়নে তার বাবা শাহ আলম বলেন, সিরাতুল জান্নাত ২০১৮ সালের পহেলা ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। আমরা পরিবারের সবাই অনেক খুশি হয়েছিলাম তাকে লালন পালন করে বড়ো করে তুলেছি। আমরা সবাই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি, সে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আসা করতো। আমি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহী করি। আমার যে আয় রোজগার হয় সেটা দিয়ে কোনোভাবে পরিবার চলতো। হঠাৎ করে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর আমরা দিশেহারা হয়ে যাই। ডাক্তারের কাছে তাকে নিয়ে গেলে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয় সেগুলো রংপুরে করাই। তখন ধরা পড়েছিল সে লিভার সিনোসিস রোগে আক্রান্ত পরে অভাবের কারণে আর চিকিৎসা করাতে পারিনি ৷ কিছুদিন যেতেই সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়ের যন্ত্রণা দেখতে না পেয়ে বাবার সূত্রে পাওয়া দুই শতক বসতবাড়ি ছিলো তা বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাই । সেখানে আবার চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়। সেগুলো করার পরে জানতে পারি সে বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসক বলেছে এ রোগ বিরল তেমন কারো হয়না শুধু দেশে একমাত্র আমার মেয়ের হয়েছে। চিকিৎসক বলেছে তাকে ভারতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে। সেখানে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন । তবে আমার এত টাকা খরচ করার কোনো সামর্থ্য নাই। আমার যা কিছু ছিলো সবকিছু বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন দুই বেলা খাবো সেটার কোনো উপায় নাই। আমি খুব অসহায় আমার মেয়ের জীবনটা বাঁচাতে চাই। সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।  


সিরাতুল জান্নাতের মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো সে ভালো লেখা পড়া করতো। হঠাৎ করে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায় পড়ে তার বিরল রোগ ধরা পরে। আমার মেয়েকে বাঁচার জন্য খুব চেষ্টা করছি কিন্তু তাকে আর কীভাবে বাঁচাবো আমার যে কোন উপায় নাই তাকে বাঁচানোর। সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহায়তা চাই তারা সহায়তা করলে আমার মেয়ে বাঁচবে। আমার আদরের মেয়েটা আজকে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুই বেলা খাবো সেই উপায় নাই। আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিলো কিছু বিল বাকি থাকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে মেয়েকে নিয়ে এখন অন্ধকারের মধ্যে আছি। বাড়িতে কোনো উপায় নাই রান্না করে মেয়েটাকে একবেলা খাওয়াবো কিংবা আমরা খাবো। 


সিরাতুল জান্নাতের শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, সিরাতুল জান্নাত ভালো মেধাবী শিক্ষার্থী। হঠাৎ করে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে স্কুলে আসেনা। আমরা তাকে যতটুকু পারি সহায়তা করেছি। শুনেছি তার পরিবার খুব গরীব তার বাবা একজন রিকশা চালক। আমরা সবাই তাকে সহায়তা করলে মেয়েটা নতুন জীবন ফিরে পাবে।  


এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করছি মেয়েটা ও তার পরিবারকে সহায়তা করতে। সরকারি ভাবে সহায়তা দিয়েছি তাছাড়া নিজেও সহায়তা করেছি। আমাদের উপজেলার সাবেক ইউএনও প্রীতম সাহাসহ তাকে আমরা নিজস্ব ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসলে মেয়েটা নতুন জীবন পাবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি আমি সেভাবে

জানিনা আপনার মাধ্যমে শুনলাম খোঁজ খবর নিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।


সহযোগিতা পাঠাতে বা যোগাযোগ করতে পারেন তার মায়ের এই নম্বরে: 

 ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮


 সহযোগিতা ও যোগাযোগ:

 মোবাইল: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 অর্থ সহায়তা পাঠানোর নম্বরসমূহ:

 বিকাশ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 নগদ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 রকেট: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

(নম্বরটি ব্যক্তিগত)

আপনার মতামত লিখুন

আজকের দেশ বাংলা

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বসতবাড়ি বিক্রি করেও চিকিৎসার খরচ হচ্ছে না শিশু সিরাতের, সহায়তার আকুতি পরিবারের

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সিরাতুল জান্নাতের টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ, সহায়তার আকুতি পরিবারের


অভাব অনটনের সংসার। রিকশা চালক বাবার সামান্য আয় আর দুঃখ কষ্টে কাটছিলো দিন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মা বাবা খুঁজে পেত সুখ। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হলো না ৷ ৮ বছর বয়সি শিশু সিরাতুল জান্নাত হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় মা বাবা। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সিরাতুল জান্নাত। 


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির মেয়ে সিরাতুল জান্নাত। সে সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভাব অনটনের সংসারে সে ছিলো পরিবারের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে আদরের মেয়ের বিরল রোগে শোকে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। 


এক বছর আগে অসুস্থ হওয়ার পরে লিভার সিনোসিন রোগ শনাক্ত হয়। পরে টাকার অভাবে পরিবার চিকিৎসা করতে না পেরে এখন বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত সে। শুরুতে নিজের জমানো টাকা দিয়ে কিছুটা চিকিৎসা শুরু করলেও পরে কুলে উঠতে পারেনি পরিবার। এলাকাবাসীর সহায়তায় কিছুদিন চিকিৎসা করার পর নিজের পৈতৃক দুই শতক জমির ওপর টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি করা বসতবাড়ি বিক্রি করে করেছেন তার চিকিৎসা। এখন চিকিৎসা করার কোনো উপায় নেই পরিবারের। এক মাস ধরে কোনো রকমের চিকিৎসা ছাড়াই বিছানায় পড়ে আছে পরিবারের আদরের শিশুটি। 


অশ্রুসিক্ত নয়নে তার বাবা শাহ আলম বলেন, সিরাতুল জান্নাত ২০১৮ সালের পহেলা ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। আমরা পরিবারের সবাই অনেক খুশি হয়েছিলাম তাকে লালন পালন করে বড়ো করে তুলেছি। আমরা সবাই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি, সে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আসা করতো। আমি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহী করি। আমার যে আয় রোজগার হয় সেটা দিয়ে কোনোভাবে পরিবার চলতো। হঠাৎ করে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর আমরা দিশেহারা হয়ে যাই। ডাক্তারের কাছে তাকে নিয়ে গেলে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয় সেগুলো রংপুরে করাই। তখন ধরা পড়েছিল সে লিভার সিনোসিস রোগে আক্রান্ত পরে অভাবের কারণে আর চিকিৎসা করাতে পারিনি ৷ কিছুদিন যেতেই সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়ের যন্ত্রণা দেখতে না পেয়ে বাবার সূত্রে পাওয়া দুই শতক বসতবাড়ি ছিলো তা বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাই । সেখানে আবার চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়। সেগুলো করার পরে জানতে পারি সে বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসক বলেছে এ রোগ বিরল তেমন কারো হয়না শুধু দেশে একমাত্র আমার মেয়ের হয়েছে। চিকিৎসক বলেছে তাকে ভারতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে। সেখানে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন । তবে আমার এত টাকা খরচ করার কোনো সামর্থ্য নাই। আমার যা কিছু ছিলো সবকিছু বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন দুই বেলা খাবো সেটার কোনো উপায় নাই। আমি খুব অসহায় আমার মেয়ের জীবনটা বাঁচাতে চাই। সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।  


সিরাতুল জান্নাতের মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো সে ভালো লেখা পড়া করতো। হঠাৎ করে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায় পড়ে তার বিরল রোগ ধরা পরে। আমার মেয়েকে বাঁচার জন্য খুব চেষ্টা করছি কিন্তু তাকে আর কীভাবে বাঁচাবো আমার যে কোন উপায় নাই তাকে বাঁচানোর। সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহায়তা চাই তারা সহায়তা করলে আমার মেয়ে বাঁচবে। আমার আদরের মেয়েটা আজকে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুই বেলা খাবো সেই উপায় নাই। আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিলো কিছু বিল বাকি থাকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে মেয়েকে নিয়ে এখন অন্ধকারের মধ্যে আছি। বাড়িতে কোনো উপায় নাই রান্না করে মেয়েটাকে একবেলা খাওয়াবো কিংবা আমরা খাবো। 


সিরাতুল জান্নাতের শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, সিরাতুল জান্নাত ভালো মেধাবী শিক্ষার্থী। হঠাৎ করে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে স্কুলে আসেনা। আমরা তাকে যতটুকু পারি সহায়তা করেছি। শুনেছি তার পরিবার খুব গরীব তার বাবা একজন রিকশা চালক। আমরা সবাই তাকে সহায়তা করলে মেয়েটা নতুন জীবন ফিরে পাবে।  


এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করছি মেয়েটা ও তার পরিবারকে সহায়তা করতে। সরকারি ভাবে সহায়তা দিয়েছি তাছাড়া নিজেও সহায়তা করেছি। আমাদের উপজেলার সাবেক ইউএনও প্রীতম সাহাসহ তাকে আমরা নিজস্ব ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসলে মেয়েটা নতুন জীবন পাবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি আমি সেভাবে

জানিনা আপনার মাধ্যমে শুনলাম খোঁজ খবর নিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।


সহযোগিতা পাঠাতে বা যোগাযোগ করতে পারেন তার মায়ের এই নম্বরে: 

 ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮


 সহযোগিতা ও যোগাযোগ:

 মোবাইল: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 অর্থ সহায়তা পাঠানোর নম্বরসমূহ:

 বিকাশ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 নগদ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

 রকেট: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

(নম্বরটি ব্যক্তিগত)


আজকের দেশ বাংলা

সম্পাদক
মো: নাজমুল হাসান (নাজিম)
মোবাইল: ০১৮২৭৭৫৪৬৩৫

কপিরাইট © ২০২৬ আজকের দেশ বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত