যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার বিকেলে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্ত করতে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করেছিলেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হলেও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। এই বিষয়ে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। মূলত নিজের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অন্য কারও চাঁদাবাজি মেনে নিতে না পেরে শিপন আহমেদ মুন্না তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্ত অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় প্রথমে শামীম ও সেলিমকে পাঠান। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা রানার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আচমকা গুলি চালান। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পিস্তলের গুলির পাশাপাশি চাকু দিয়ে তার গলা কাটা হয়।
ঘটনার পর ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। রাজীব ইতিপূর্বে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও সহযোগী সূর্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার বিকেলে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্ত করতে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করেছিলেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হলেও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। এই বিষয়ে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। মূলত নিজের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অন্য কারও চাঁদাবাজি মেনে নিতে না পেরে শিপন আহমেদ মুন্না তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্ত অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় প্রথমে শামীম ও সেলিমকে পাঠান। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা রানার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আচমকা গুলি চালান। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পিস্তলের গুলির পাশাপাশি চাকু দিয়ে তার গলা কাটা হয়।
ঘটনার পর ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। রাজীব ইতিপূর্বে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও সহযোগী সূর্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন