শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা
আজকের দেশ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ৬টি আসনে পাঁচটিতেই জামায়াত ও একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। তবে যশোর সদর আসনে অত্যন্ত নাটকীয় এক লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে জামায়াতের ‘ক্লিন সুইপ’ বা সবকটি আসনে জয়ের স্বপ্ন রুখে দিয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।যশোর-১ (শার্শা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটনকে ২৫,৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বোমা আতঙ্ক ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শেষ হাসি হাসলেন জামায়াতের এই নেতা।যশোর-২(ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতের ডা. মুসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১,৭১,৯৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নিকে ২৫,৬৬৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নারী ও তরুণ ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি এই আসনের জয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।যশোর-৩ (সদর) আসন। এখানে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১,৭৩,০২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোঃ আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১,৬৫,১২৯ ভোট। মাত্র ৭,৮৯৪ ভোটের এই ব্যবধান প্রমাণ করে সদর আসনে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর)সদরের বসুন্দিয়া আসনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি ১,৭৭,৫৩৩ ভোট পেয়ে ধানের শীষের মতিয়ার রহমান ফারাজীকে প্রায় ৪৯,৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানই তাকে এই বড় জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী জামায়াতের অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক ৪৭,৫৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল দ্বিতীয় এবং বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।কেশবপুরে বিজয়ী অধ্যাপক মুক্তার আলীযশোর-৬(কেশবপুর) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক মুক্তার আলী ৯১,০৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির আবুল হোসেন আজাদকে ১১,৪৬৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।দীর্ঘ সময় পর নিজ প্রতীকে ভোট দিতে পেরে জামায়াত কর্মীদের মাঝে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে যশোরে জামায়াতে ইসলামীর এই উত্থান স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অন্যদিকে, বিএনপি একটি মাত্র আসন পেলেও সদর আসনে তাদের অবস্থান শক্ত রেখে বড় ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ৬টি আসনে পাঁচটিতেই জামায়াত ও একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী