উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হৃদয় হাসান, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)প্রতিনিধি ||
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামিল আহমেদ লিমন। পরিবারের আশা ছিল, পিএইচডি শেষ করে একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে। অবশেষে কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে নিজ গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী।সোমবার (০৪ মে) সন্ধ্যা ৭টায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন ভারপ্রাপ্ত জামালপুর জেলা প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ , জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমানস্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ।জানাজার মাঠজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় সন্তানের কফিন ঘিরে পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কেউ অঝোরে কাঁদছিলেন, কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন সেই কফিনের দিকে—যেখানে নিথর হয়ে শুয়ে ছিল পরিবারের স্বপ্ন, গ্রামের অহংকার লিমন।এর আগে সোমবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি লালডোবায় পৌঁছালে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বাড়ির সামনে তখন হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। চারদিকে শুধু কান্না আর শোকের মাতম।সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।নিহত লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার ছেলেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পিএইচডি করার জন্য আমেরিকায় পাঠাইছিলাম। ছোটবেলা থেকে কখনো তাকে কষ্ট দেই নাই। আমার আদরের ছেলেটাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করবে, এটা কোনোদিন কল্পনাও করি নাই। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর কোনো বাবার যেন এভাবে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে না হয়।”জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানাজা শেষে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন,“লিমন শুধু এই এলাকার নয়, পুরো দেশের গর্ব ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে এভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আমরা সবসময় আছি।”লিমনের চাচা জিয়াউল হক বলেন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া লিমনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আগেই গ্রামের বাড়িতে দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিমন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের একজন তরুণ। এলাকায় তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন শান্ত, মানবিক ও স্বপ্নবাজ একজন মানুষ হিসেবে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছেন তারা।জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন জামিল আহমেদ লিমন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।