উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হৃদয় হাসান, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)প্রতিনিধি ||
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামিল আহমেদ লিমন। পরিবারের আশা ছিল, একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে। পিএইচডি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যার শিকার হওয়া লিমন এবার ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে—নিজ গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে।সোমবার (০৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে সেখানে হৃদয়বিদারক আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে।সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়িতে দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।লিমনের চাচা জিয়াউল হক বলেন, “ছেলেটা অনেক মেধাবী ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু ওকে এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, এটা কখনো ভাবিনি। পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।”তিনি আরও জানান, সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। কবর খননের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও বইছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী আলমগীর হোসাইন বলেন, “লিমন আমাদের এলাকার গর্ব ছিল। বিদেশে গিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচার চাই।”একই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা খুরশেদ আলম, নুর নবী ও সুজন আহম্মেদসহ অনেকে। তারা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।জানা গেছে, লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। তিনি একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করতেন। তবে গ্রামের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক ছিল গভীর, মাঝে মধ্যেই তারা লালডোবার বাড়িতে আসতেন।লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে তিনি ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে গবেষণা করছিলেন।গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে লিমন ও আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এদিকে, একই ঘটনায় নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ৬ মে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।