
মিঠুন সাহা, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফজদেরহাট এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে চলছে মাসব্যাপী বর্ণিল ফুল উৎসব। গত ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এই ফুল উৎসবে প্রায় ১৪০ প্রজাতির দেশি ও বিদেশি ফুল প্রদর্শন করা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষাধিক। গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, ডালিয়া, পেটুনিয়া, অর্কিডসহ নানা রঙ ও বৈচিত্র্যের ফুলে পুরো ডিসি পার্ক এলাকা হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন ও প্রাণবন্ত।
সুলভ মূল্যে জনসাধারণ এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে পার্কজুড়ে। নান্দনিক ফুল বাগান ও সাজানো ল্যান্ডস্কেপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
ফুল উৎসবকে কেন্দ্র করে ডিসি পার্ক এলাকায় বিভিন্ন দোকানপাট ও অস্থায়ী স্টল গড়ে উঠেছে। ফুল ও চারা, হস্তশিল্প, পিঠা-পায়েসসহ খাবারের দোকান এবং নানা পণ্যের কেনাবেচায় জমে উঠেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এতে করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ছে।
দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিতে প্রতিদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন। আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ফুল উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ফটিকছড়ি, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি,পটিয়া উপজেলা শিল্পগোষ্ঠী । এতে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচ ও গানের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ যোগ করেছে।
জানা যায়, এই ডিসি পার্কটি
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফজদেরহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পাশে একটি সরকারি জমি দখলমুক্ত করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেন-এর আদলে নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক। আকার, প্রকার ও ফুলের সংখ্যার দিক থেকে এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান হিসেবে পরিচিত।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখানে শতাধিক প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহে আয়োজন করা হয় ফুল উৎসব। ২০২৬ সালে মাসব্যাপী চতুর্থ ফুল উৎসব শুরু হয়েছে ৯ জানুয়ারি থেকে, যা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের উৎসবে রয়েছে ১৪০ প্রজাতির দুই লক্ষাধিক ফুল ছাড়াও ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, নৌকা প্রদর্শনী, চিত্র প্রদর্শনী ও মিউজিক ফেস্ট।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সবুজায়নকে উৎসাহিত করা এবং সাধারণ মানুষের বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কের এই ফুল উৎসব এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে