
রুবেল তালুকদার, জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড বয় ও মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টদের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া হচ্ছিল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তিন সদস্যের একটি টিম। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড সরেজমিন পরিদর্শন করেন তারা।
অভিযানকালে দুদক টিম হাসপাতালের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগী ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগীদের দেওয়া তথ্যে চিকিৎসক না থেকে অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠে আসে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. অভিজিৎ রায় (বর্তমানে ঢাকায় প্রশিক্ষণরত), অবসরপ্রাপ্ত মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট সুফিয়া সুলতানা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ওয়ার্ড বয় মো. আবু তালেবের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হয়।
দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মমিন উদ্দিন জানান, দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় প্রাপ্ত একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দুদক হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে কর্মস্থলে না থাকলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।