বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জামায়াতে যোগদান ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন কর্ণফুলীর ১৫ হাজার নৌ-শ্রমিক কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর): বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন গণধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে  আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভা সাবেক এমপি মনির ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে আদালতের ‘রেড সিগন্যাল’ বগুড়ার শাহজাহানপুরে যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ১ জাবিতে পাঠশালা কর্তৃক টেবিল-টক  পাঠচক্র আয়োজন গাইবান্ধায় সদর আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে জনগনের মুখোমুখি অনুষ্ঠান বোরকা পরে স্কুলে প্রবেশের সময় সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক খাগড়াছড়িতে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি প্রচারণায় সনাতনী নেতৃবৃন্দরা

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে
141

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এসব শূণ্যপদে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারি শিক্ষকের পদশূন্য রয়েছে ৭৫টি। যার ফলে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দেশে শিক্ষার ভিত্তি বলে বিবেচিত প্রাথমিক শিক্ষায় এমন শিক্ষক সংকটে ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ১০২টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন মেয়াদে নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী শিক্ষকদেরকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এই শিক্ষকরা। তাঁদের ওপর সৃষ্টি হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকলে কোনো শৃঙ্খলা থাকে না। অনেক সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। শিক্ষককরা চলেন নিজের ইচ্ছেমতো। এতে ক্লাস পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটে। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা থেকে।’

পৌরসভা এলাকায় ২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। চৌদ্দগ্রাম বাজারে অবস্থিত এম এ করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর গত ৯ মাস পদটি শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সিনিয়র শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২০ জন। শিক্ষক স্বল্পতায় বর্তমানে দুই শিফটে পাঠদান করা হচ্ছে।

পৌরসভার অপরটি ১১৭নং ছাটিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন সহকারী শিক্ষিকা পারভিন আক্তার। ২০২৪ এর আগস্টে অবসরে গেছেন প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পারভিন আক্তার। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ১০৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে ২ শিফটে পাঠদান হচ্ছে। কিছুদিন আগে শিক্ষিকাদের মধ্যে একজন মেটার্নেটি ছুটিতে, আরেকজন বিটিবিটি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তখন কোনোরকমে চালিয়ে নিতে অন্য বিদ্যালয় থেকে ধারে শিক্ষক আনতে হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা মুন্সিরহাট ইউনিয়নের খিরনশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন গত দুই বছর থেকে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হয়।

প্রধান শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা। পৌরসভার শ্রীপুর ও ছাটিতলা গ্রামের বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন মানসম্মত শিক্ষার অনিশ্চয়তায় অনেকেই বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মনিরুজ্জামান শনিবার বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইতিমধ্যে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষক শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102