
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনস্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করার জন্য অদ্য ০২/১০/২০২৫ তারিখ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জনাব সৈয়দ সাফকাত আলী, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম জনাব শাহানাজ আক্তার ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টীম।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে বাল্যবিবাহ হচ্ছে মর্মে খবরের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দেখা যায়, আইন অনুযায়ী বিবাহের উপযুক্ত বয়স ( পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর, মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর) হওয়ার পূর্বেই উম্মে হাবিবা অহনা (বয়স: ১৫ বছর) , পিতা: মোঃ অলী উল্লাহ, মাতা: সালমা আক্তার নামের এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করার আয়োজন করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উম্মে হাবিবা অহনা (বয়স: ১৫ বছর) এর পিতাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন তার কন্যার বয়স ১৮ বছর হয়নি এবং তার অপরাধ স্বীকার করে নেন।
উম্মে হাবিবা অহনা (বয়স: ১৫ বছর) এর পরিবার উক্ত আইন অমান্য করে এবং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বয়স গোপন করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনা করার অপরাধে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ ধারা ০৮ ধারা মোতাবেক ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড, তৎক্ষণাৎ অনাদায়ে ০৭(সাত) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়৷ উল্লেখ্য দণ্ডিত অর্থদণ্ড তৎক্ষণাৎ আদায় করে মেয়ের পিতা মোঃ অলী উল্লাহ ও ওয়ার্ড মেম্বার জনাব বজলুর রহমান(০৩ নং ওয়ার্ড) এর যৌথ স্বাক্ষরিত ভবিষ্যতে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন করবেন না মর্মে মুচলেকা গ্রহণ করা হয় এবং মেয়েকে আবার স্কুলে পাঠাবে বলে স্বীকৃতি দেয়।
উপজেলা প্রশাসন, চৌদ্দগ্রাম বাল্যবিবাহসহ সকল অপরাধ নিরোধে যথাযথভাবে রাষ্ট্রের আইন, কানুন ও বিধি প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ ও মনোভাব কামনা করেন।