
সৈয়দ আবু ইউসুফ
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের রাজনীতিকে দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্ত করতে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, এমনকি মৃত ব্যক্তির ভোটও কাস্ট হয়েছে। এসব ঘটনার জবাব জনগণ ৫ আগস্ট দিয়েছে। আমরা খেলা চেঞ্জ করব না, আমরা খেলা পাল্টে দেব।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবীনগর-৫ আসনের গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হলে সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের বিকল্প নেই। পাঁচশ বা এক হাজার টাকার বিনিময়ে একদিন ভালো থাকবেন, না কি পাঁচ বছর দেশের মালিক হবেন- এই সিদ্ধান্ত আপনাদের।
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে আবারও ৫ আগস্টের মতো আন্দোলন গড়ে উঠবে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছে। আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ না হলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের জনগণ ‘লাল কার্ড’ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নবীনগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের নামে বৈষম্য ও অনিয়ম চলে আসছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ সময় তিনি রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফিকে একজন সৎ ও জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করে তাকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মওলানা মো. মোবারক হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুপ্রিম কোর্ট শাখার এক্সিকিউটিভ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নবীনগর উপজেলা শাখার আমির মোখলেছুর রহমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- মওলানা এমদাদুল হক সিরাজী, মওলানা মাইনুল ইসলাম খান্দকার, মওলানা তাজুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, এবিএম কবির আলম মাসুদ ও মো. আমিনুল হক চৌধুরীসহ অন্য নেতারা।