
মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গৌরব ও সাফল্যের দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিনভর নানা বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘যবিপ্রবি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে।সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের শব্দ আর রঙ-বেরঙের প্ল্যাকার্ডে ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।এবারের আয়োজনে কেবল আনন্দ নয়, প্রাধান্য পেয়েছে সৃজনশীলতা ও গবেষণা। উপাচার্য ও অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অঙ্কিত দীর্ঘ পথআল্পনা, বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে পিঠা উৎসব এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পোস্টার প্রেজেন্টেশন পরিদর্শন করেন। এছাড়াও জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ক্যাম্পাসে একটি বিশেষ ‘জুলাই কর্নার’ উদ্বোধন করা হয়।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন,”যবিপ্রবি আকারে ছোট হলেও আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের অনেক প্রবীণ প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে আমরা বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন যবিপ্রবিকে একটি প্রকৃত বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।”তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়াতে এবং জমি স্বল্পতা নিরসনে ইতোমধ্যে ইউজিসিতে জমি অধিগ্রহণের আবেদন (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে।বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের লোকসঙ্গীত এবং নাচ-গানের ছন্দে মেতে ওঠে পুরো মিলনায়তন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালী মৌজায় মাত্র ৩৫ একর জমি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৮টি অনুষদের অধীনে ২৭টি বিভাগে প্রায় ৪,২৩১ জন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করছেন। ৩৪৫ জন শিক্ষক এবং অত্যাধুনিক গবেষণাগার নিয়ে যবিপ্রবি এখন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।