
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ধানগড়া এলাকায় সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে নিয়মিত অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত ধানগড়া বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এ চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার প্রধান চলাচলের পথ। আনুমানিক হিসাবে, প্রতিদিন এ রাস্তায় প্রায় তিন হাজার সিএনজি এবং দুই থেকে তিন হাজার ব্যাটারি চালিত ছোট-বড় অটোরিকশা চলাচল করে। এছাড়া ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনও এই সড়ক ব্যবহার করে।
সম্প্রতি এক সিএনজি চালক গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে চাঁদা আদায়ের একটি চিত্র তুলে ধরেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে পৌরসভার নামে প্রতিদিন সিএনজি চালকদের কাছ থেকে ১০ টাকা এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা করে আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাক বা অন্যান্য বড় যানবাহন থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা।
চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েকজন সিএনজি চালক দাবি করেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গোপন ভিডিওটি পাঠিয়ে তার মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো পৌরসভা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রক্রিয়া ও সরকারি আদেশ ছাড়া সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে এ ধরনের চাঁদা বা টোল আদায় করতে পারে না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীনভাবে টাকা আদায় করা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি চাঁদাবাজির শামিল।
স্থানীয় চালকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশেই এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।