
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কৃষ্ণছড়া খালের পাড়ে গার্ড ওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। বহুল প্রত্যাশিত প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। একসময় যে খাল ও রাস্তা ভেঙে পড়ার ভয় ছিল—সেই ভয়ই আজ আরও বড় রূপে ফিরে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে পৌর এলাকার দক্ষিণ ফালগুনকারায় কৃষ্ণছড়া খালের পাড়ে।
এলাকাবাসী জানায়, ৩১ মিটার গার্ড ওয়াল নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দে কাজ পেয়েছে পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে যখন কাজ শুরু হলো, তখন দেখা গেল—নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে নরম ইট, মাটি মেশানো বালু আর কম সিমেন্ট।
এই দৃশ্য দেখে বহুদিনের আশা মুহূর্তেই মুষড়ে পড়ে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বেলাল হোসেন ও আবদুল মজিদ আক্ষেপ করে বলেন—
কত কষ্ট করে মানুষ দিন গুনে বসেছিল ভালো কাজের অপেক্ষায়! খালের পাড়ে গার্ড ওয়াল হলে প্রাণের রাস্তা বাঁচবে—এই স্বপ্নই দেখেছি। কিন্তু আজ দেখি, ঠিকাদার আবারও আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নরম ইট, ভেজা বালু, কম সিমেন্ট—এসব দিয়ে কি জনস্বার্থের স্থায়ী স্থাপনা হয়?
তারা আরও বলেন,
গণঅভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখনও কেউ কেউ একই পথে হাঁটছে দেখে মনটাই ভেঙে গেছে।
মঙ্গলবার সকালে নির্মাণকাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ও নিম্নমানের কংক্রিট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে এলাকাবাসী একসুরে কাজ বন্ধ করে দেয়।
চারপাশে তখন উত্তেজনা—
এইভাবে কাজ চলবে না”—গর্জন তোলেন সবাই।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী যুবলীগ নেতা সুমন পাটোয়ারীর মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন বেজেছে, কিন্তু রিসিভ হয়নি—ফলে তাঁর অবস্থান অজানা রয়ে গেছে।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর ইসলাম মিলন বলেন—
এক দিন আগেই নিম্নমানের কাজ দেখে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। আজ আমাদের না জানিয়ে তারা আবার কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
জনস্বার্থের কাজে কি আর অবহেলা সহ্য করা যায়? কোটি টাকার প্রকল্পে যদি মান না থাকে, তাহলে জনগণ কোথায় যাবে।
একদিকে আশাভঙ্গের বেদনা, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে চৌদ্দগ্রামবাসী এখন ন্যায়বিচার ও সঠিক কাজের দাবি নিয়ে সরব।